সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
ডেস্ক: ২০১৪-১৫ সাল৷ সারদা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর পর তৃণমূলের অন্য নেতামন্ত্রীদের তুলনায় বিজেপির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি তুলোধনা করা হয়েছিল মুকুল রায়কে৷ মুকুল তখন ছিলেন তৃণমূলের সবর্ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক৷ দক্ষ সংগঠক হিসেবে তখন নিজেকে তখন প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন মুকুল রায়৷ সিপিএমের প্রমোদ দাশগুপ্ত কিংবা অনিল বিশ্বাসকে টেক্কা দিয়ে হয়ে উঠেছেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য৷ অপ্রতিরোধো তৃণমূলকে ঠেকাতে তখন বিজেপি-সব বিরোধীদের হাতের অস্ত্র সারদা কেলেঙ্কারি৷ তখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পর্যবেক্ষক ছিলেন সিদ্ধার্থনাথ সিং৷ তৃণমূলকে তুলোধনা করতে তিনি বেছে নিয়েছিলেন দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ মুকুল রায়কে৷ সিদ্ধার্থনাথ সিং সংবাদমাধ্যমের সামনে কিংবা বিভিন্ন জনসভায় মুকুলকে আক্রমণ করে বলতেন ‘ভাগ মুকুল ভাগ’৷ যা তখন বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল৷ কার্যত বিজেপি কর্মীদের কাছে ‘ভাগ মুকুল ভাগ’ স্লোগানে পরিণত হয়েছিল৷ এই স্লোগান দিয়ে সিদ্ধার্থনাথ বাংলায় বিজেপি কর্মীদের কাছে নিজের একটা পরিচয়ও বানিয়ে ফেলেছিলেন৷ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মুখেও তখন ঘুরে বেড়াতো ‘ভাগ মুকুল ভাগ’ স্লোগান৷




সবচেয়ে মজার ব্যাপার, তৃণমূল ছাড়ার পর বিজেপির সেই স্লোগান পরিবর্তিত হয়েছে৷ গেরুয়া শিবিরে এখন নতুন স্লোগান ‘আয় মুকুল আয়’৷ মুকুল রায় বিজেপিতে শেষ পর্যন্ত যোগ দেবেন কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না, তবে সূত্রের খবর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একটা অংশ মুকুলকে নিয়ে বেশ আগ্রহী৷ মুকুল রায়কে গ্রহণ করছে বিজেপি, এমন খবর কিন্তু রাজনাতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে৷ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন বর্তমানে বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশদরা। কেন মুকুলকে নেওয়া হচ্ছে, তা বোঝাবেন তাঁরা। শোনা যাচ্ছে,রাজ্য বিজেপির বড় দায়িত্বে আসছেন মুকুল রায়। মুকুলকে নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বা এই ধরণের কোনও পদ দিয়ে কাজ করানোর সম্ভাবনা প্রবল। বিজেপি সূত্রে খবর, দলের অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে মুকুলকে। অন্য একটি মহল থেকে শোনা যাচ্ছে, মুকুল রায়কে রাজ্য বিজেপি সভাপতি করা হতে পারে। বর্তমান রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের স্বার্থে যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি মুকুলকে সভাপতি করে, সেক্ষেত্র তিনি সবরকম সহযোগিতা করবেন।


একটি মহল আবার মনে করছে, মুকুল রায় যেহেতু সারদা-নারদা কাণ্ডে অভিযুক্ত, তাই এখনই সরাসরি তাঁকে বিজেপিতে নিলে জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই আপাতত মুকুল রায় নিজস্ব দল বা মঞ্চ তৈরি করুন। সেখান থেকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি চালান। তৃণমূল ভাঙিয়ে সংগঠন বাড়ান৷ তারপর পরিস্থিতি বুঝে বিজেপিতে যোগদান। নাহলে ওই দলের সঙ্গেই বিজেপির সমঝোতা হবে। তাই মুকুল রায় ঘনিষ্ঠদের তৈরি জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের মঞ্চেই আপাতত কাজ করতে চাইছেন মুকুল। এই দল নির্বাচনে বিজেপির জোটসঙ্গী হিসেবে কাজ করবে৷


যদিও তৃণমূলের ব্রাত্য মুকুলের সঙ্গে দলের আঁতাতকে একেবারে ভাল নজরে দেখছে না বিজেপি বড় একটা অংশ৷ আর এখানেই বিজেপি তৃণমূলস্তরের নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন৷ বিশেষ করে ‘আদি’ বিজেপি কর্মীদের একটা বড় অংশ মনে করছে, মুকুলকে দলে নেওয়া হলে বিরাটা ভুল হবে৷ সারদা-নারদা কাণ্ডে অভিযুক্তকে দলে নিলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন ভোঁতা হতে বাধ্য বিজেপির৷ কারণ, শাসক দলের বিরুদ্ধে সারদা-নারদা একটা বড় অস্ত্র গেরুয়া শিবিরের কাছে৷ মুকুলকে দলে নিলে তদন্তেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে৷ অন্যান্য দলগুলিও তখন সারদা-নারদা কলঙ্ক ছিটিয়ে দেবে বিজেপির গায়ে৷ এতে দলের আখেরে লাভ কিছু হবে না৷ তাছড়া একজন নেতা দল পরিবর্তন করলেই কলঙ্ক মুছে গিয়ে তিনি ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যাবেন না৷ সেক্ষেত্রে মুকুল বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে দলকে৷ তাই ‘ভাগ মুকুল ভাগ’ ছেড়ে এখনই ‘আয় মুকুল আয়’ স্লোগান মেনে নিতে পারছে না ‘আদি’ বিজেপিরা৷


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এক বিরলতর থেকে বিরলতর ব্যাক্তিত্ব যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-আজ আমি এমন এক ব্যক্তিত্বের কথা বলব যা খুবই বিরল।তুফানগঞ্জ এন এন এম হাইস্কুলের প্রাক্তন বায়োলজি শিক্ষক আমাদের সবার প্রিয় মাননীয় কুশল ব্যানার্জি মহাশয় যার প্রত্যেক কথা ছিল অমৃততুল্য,তিনি তুফানগঞ্জ এন.এন.এম হাই স্কুলে মাত্র 25 বছর বয়সে যোগ দেন।তার ব্যাক্তিত্ব ছিল বিরলতর থেকে বিরলতর।আমি যখন প্রথমদিন স্কুলে আসি আমার চোখ প্রথমে খোঁজে সেই ব্যক্তিত্বকে নাম না জানার ফলে আমি চিনতে পারিনি সেদিন কালের প্রবাহে আমি পরিচিতি লাভ করি তার সম্বন্ধে।তিনি যখন ক্লাস করাতেন তার ক্লাসে পিন পড়ারও শব্দ পাওয়া যেত মানে একদম প্সিকটি নট।তিনি খুব বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চান তিনি মাঝে মাঝে স্কুলে ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ে আসতেন।আর তার সেই পরিচিত তুঁত কালারের ওয়াটার পোলো।তার ব্যাক্তিত্বে আছে নানা শিল্পের মিশ্রণ তিনি একাধারে শিক্ষক,ভালো কবি এবং একজন সুদক্ষ লেখক।তার অসাধারণ কবি প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় তার ফেসবুক পোস্টে লেখা এই দু-লাইন থেকে -
"আকাশ, বৃষ্টি হও.... ষোড়শীর পিঠের ওপর কালো সাপের কুন্ডলী, তাতে একটা গন্ধরাজ বা শ্বেত করবী... কাজল চোখে দূর খেতের ছায়া পড়ে…

ফের প্রকাশ্যে বিয়ার পার্টি তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে বসল বিয়ার পার্টি।ঘটনাস্থল তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হল একদল কিশোর-কিশোরী।এই ঘটনায় আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রেল কর্তৃপক্ষকে। মঙ্গলবার বিকেলে ৪টা নাগাদ আট-নয়জন কিশোর কিশোরীর একটি দল বিয়ার নিয়ে উপস্থিত হয় তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন স্টেশনে উপস্থিত নিত্যযাত্রীরা।এদিকে এই ঘটনা সম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায় এই ঘটনাটি তাদের অজানা ছিল।
এমনিতেই তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন নিয়ে তুফানগঞ্জবাসীর অভিযোগের শেষ নেই।নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।আলোর ব্যবস্থাও নেই। নানান অপরাধমূলক কাজের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।আরপিএফ ইন্সপেক্টর সঞ্জয় প্রসাদ জানান,‘তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে আলো বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলাম।কিন্তু এখনও ব্যবস্থা হয়নি। এদিকে রেল পুলিশ সংখ্যায় কম।শুধুমাত্র একজন রেলপুলিশ দেওয়া হয়েছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।তিনি রাতেই কাজ করেন।দিনের বেলায় এমন ঘটনায় রেল পুলিশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বের করা হবে।’

কীভাবে কি হল ছেলেটির সঙ্গে?

স্টাফ রিপোর্টার:- তুফানগঞ্জের অধিবাসী সৌরদীপ পাল (ইনসেটে) বর্তমানে এক বিশেষ পরিচিত মুখ ফেসবুকে।তিনি নানা বিষয়ে মানুষকে মোটিভেট করেন।বর্তমানে তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে 14k ফলোয়ার কে না জানে তাকে?বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই চেনে তাকে।কিন্তু ইদানিং তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।ডাক্তার দেখিয়েছেন ডাক্তার বলেছেন,রাত জেগে কাজ করার জন্য এরূপ অবস্থা স্বাস্থ্যের।