সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কোমর পর্যন্ত মূর্তি গড়ে ফুটবল বিশ্বকাপেও বিতর্কে মমতা

অরিন্দম সরকার,কলকাতা: এটাই বাকি ছিল৷ কথায় আছে, রাজনীতি ছাড়া কোন বিষয়ই নেই বাংলাতে বা সব বিষয়েই রাজনীতি বাংলায়৷ প্রমাণ হয়ে গেল আরও একবার৷ ভারতে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপেও শুরু হয়ে গেল সিপিএম-বিজেপি-তৃণমূল কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি৷ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গোটা সল্ট লেক জুড়ে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধীরা তুলোধনা করেছেন রাজ্য সরকারকে৷ এবার যুবভারতী স্টেডিয়াম থেকে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ভিত্তিপ্রস্থর সরিয়ে নেওয়া নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক৷ কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে যুবভারতীর সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনায় স্থাপিত ফুটবলারের মূর্তী নিয়েও৷
ভারতে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ, ফাইন্যাল সহ বেশ কিছু ম্যাচ আছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেও৷ ইতিহাসের পাতায় শুধু ভারতীয় ফুটবল নয়, গোটা দেশও৷ রাজ্য সরকার ১২০ কোটি টাকা খরচা করে সংস্কার করেছে যুবভারতী স্টেডিয়ামের৷ খোলনলচে বদলে গেছে যুবভারতীর৷ আর এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ সিপিএমের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংস্কারের পর সরিয়ে ফেলা হয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ভিত্তিপ্রস্থর ফলক৷ এই অভিযোগ নিয়ে টুইটও করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র৷ তৃণমূলের পাশাপাশি তিনি এই চক্রান্তের পিছনে আরএসএসকেও দায়ী করেছেন৷
২৫ শে জানুয়ারী ১৯৮৪ সালে নেহেরু কাপ উপলক্ষ্যে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের উদ্বোধন হয়৷ উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু৷ স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনও করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু৷ জ্যোতি বসুর সেই নামাঙ্কিত ফলকই সরিয়ে ফেলেছে অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে স্টেডিয়াম কমিটি, এমনই অভিযোগ সিপিএমের৷ যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস৷
এদিকে যুবভারতীর সামনে এক ফুটবলারের কোমড় পর্যন্ত মূর্তি ও তার উপর বিশ্ববাংলার লোগো নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক লড়াই৷ ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন মাঠের সামনে শুধু কোমড় পর্যন্ত মূর্তি রাখার পরিকল্পনা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর কবিতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেডি হয়েছে৷ এবার কোমড় পর্যন্ত ফুটবলারের মূর্তি নিয়েও রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি শুরু হয়েছে রঙ্গ রসিকতার খেলা৷ বিজেপির তরফ থেকে কৌতুক করে বলা হয়েছে, ‘যেমন মমতার বুদ্ধি, তেমন কাজ৷ তাই কোমড় পর্যন্ত মূর্তি গড়ে তার উপর বিশ্ববাংলার লোগো লাগিয়ে গেটের সামনে রেখেছে, যারা দেখবে তারাই হাসবে’৷
এমনকি স্টেডিয়ামে ঢোকার পরেই দেখা যাবে ফুটবলসম্রাট পেলের সঙ্গে মমতার বড় ছবি ও তার পাশেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ছবি৷ বিজেপি ও সিপিএমের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ফুটবল বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে মমতার কি ভূমিকা? রাজ্যের পক্ষে এটা লজ্জাজনক বলে জানিয়েছে বিরোধী দলগুলি৷ যদিও তৃণমূলের তরফে ‘এগুলো বিরোধীতা করার জন্যই বলা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷
অন্যদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে গোটা সল্ট লেক জুড়ে হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করেছে বিজেপি ও সিপিএম৷ হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে বেশ কিছু মানবতাবাদী সংগঠনও৷ মানবতাবাদী সংগঠন APDR এর তরফ থেকেও বিধাননগর জুড়ে হকার উচ্ছেদের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে৷ গড়ে উঠেছে হকার উচ্ছেদ সংগ্রাম কমিটি৷
সব মিলিয়ে বাংলায় ফুটবল বিশ্বকাপও রাজনীতি মুক্ত হতে পারল না৷ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়েও শুরু হয়ে গেল তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম তরজা৷ একদিকে সব বিষয়েই তৃণমূলের দখল করে নেওয়ার মানসিকতা, অন্যদিকে বিরোধীদের সব বিষয়েই বিরোধীতা করার ঝোঁক৷ দুই মিলিয়ে রাজনীতির ঘোলা রঙ লেগেই গেল ফুটবল বিশ্বকাপেও৷ আর তাতে গোটা দেশের সামনে বাংলার মুখ যে পুড়ল, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না৷

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এক বিরলতর থেকে বিরলতর ব্যাক্তিত্ব যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-আজ আমি এমন এক ব্যক্তিত্বের কথা বলব যা খুবই বিরল।তুফানগঞ্জ এন এন এম হাইস্কুলের প্রাক্তন বায়োলজি শিক্ষক আমাদের সবার প্রিয় মাননীয় কুশল ব্যানার্জি মহাশয় যার প্রত্যেক কথা ছিল অমৃততুল্য,তিনি তুফানগঞ্জ এন.এন.এম হাই স্কুলে মাত্র 25 বছর বয়সে যোগ দেন।তার ব্যাক্তিত্ব ছিল বিরলতর থেকে বিরলতর।আমি যখন প্রথমদিন স্কুলে আসি আমার চোখ প্রথমে খোঁজে সেই ব্যক্তিত্বকে নাম না জানার ফলে আমি চিনতে পারিনি সেদিন কালের প্রবাহে আমি পরিচিতি লাভ করি তার সম্বন্ধে।তিনি যখন ক্লাস করাতেন তার ক্লাসে পিন পড়ারও শব্দ পাওয়া যেত মানে একদম প্সিকটি নট।তিনি খুব বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চান তিনি মাঝে মাঝে স্কুলে ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ে আসতেন।আর তার সেই পরিচিত তুঁত কালারের ওয়াটার পোলো।তার ব্যাক্তিত্বে আছে নানা শিল্পের মিশ্রণ তিনি একাধারে শিক্ষক,ভালো কবি এবং একজন সুদক্ষ লেখক।তার অসাধারণ কবি প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় তার ফেসবুক পোস্টে লেখা এই দু-লাইন থেকে -
"আকাশ, বৃষ্টি হও.... ষোড়শীর পিঠের ওপর কালো সাপের কুন্ডলী, তাতে একটা গন্ধরাজ বা শ্বেত করবী... কাজল চোখে দূর খেতের ছায়া পড়ে…

ফের প্রকাশ্যে বিয়ার পার্টি তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে বসল বিয়ার পার্টি।ঘটনাস্থল তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হল একদল কিশোর-কিশোরী।এই ঘটনায় আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রেল কর্তৃপক্ষকে। মঙ্গলবার বিকেলে ৪টা নাগাদ আট-নয়জন কিশোর কিশোরীর একটি দল বিয়ার নিয়ে উপস্থিত হয় তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন স্টেশনে উপস্থিত নিত্যযাত্রীরা।এদিকে এই ঘটনা সম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায় এই ঘটনাটি তাদের অজানা ছিল।
এমনিতেই তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন নিয়ে তুফানগঞ্জবাসীর অভিযোগের শেষ নেই।নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।আলোর ব্যবস্থাও নেই। নানান অপরাধমূলক কাজের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।আরপিএফ ইন্সপেক্টর সঞ্জয় প্রসাদ জানান,‘তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে আলো বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলাম।কিন্তু এখনও ব্যবস্থা হয়নি। এদিকে রেল পুলিশ সংখ্যায় কম।শুধুমাত্র একজন রেলপুলিশ দেওয়া হয়েছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।তিনি রাতেই কাজ করেন।দিনের বেলায় এমন ঘটনায় রেল পুলিশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বের করা হবে।’

কীভাবে কি হল ছেলেটির সঙ্গে?

স্টাফ রিপোর্টার:- তুফানগঞ্জের অধিবাসী সৌরদীপ পাল (ইনসেটে) বর্তমানে এক বিশেষ পরিচিত মুখ ফেসবুকে।তিনি নানা বিষয়ে মানুষকে মোটিভেট করেন।বর্তমানে তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে 14k ফলোয়ার কে না জানে তাকে?বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই চেনে তাকে।কিন্তু ইদানিং তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।ডাক্তার দেখিয়েছেন ডাক্তার বলেছেন,রাত জেগে কাজ করার জন্য এরূপ অবস্থা স্বাস্থ্যের।