সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে

মালদা, ১০ অক্টোবর : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অনুদান থেকে জুলুমবাজি করে একাংশ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল পঞ্চায়েত উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। আর তাতে সাহায্য করছে ওই পঞ্চায়েতেরই এক অস্থায়ী কর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে বামনগোলা ব্লকের গোবিন্দপুর মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই ঘটনায় সুরাহা চেয়ে মালদা জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন অভিযোগকারীরা। যদিও অভিযুক্ত উপপ্রধান বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত উপপ্রধানের নাম ওসিউদ্দিন মণ্ডল এবং অস্থায়ী কর্মীর নাম পরিমল সরকার।গোবিন্দপুর মহেশপুর এলাকার জামডাঙা ও কাটাবাড়ি গ্রামের কয়েকজন উপভোক্তা লিখিত অভিযোগপত্রে জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্যকে জানান, তাঁদের নাম প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলেও এসেছে। সেই টাকা তোলার পর পরিমল সরকার তাঁদের সকলকে ওসিউদ্দিন মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেন। এবং তখনই নিজে দায়িত্বে ভ্যানোতে চাপিয়ে পঞ্চায়েত দপ্তরের দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে ছিলেন ওসিউদ্দিন। অভিযোগ, সেদিনই তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে নেওয়া হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি বলেন, ওই টাকা না দিলে তাঁরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন না। ভয়ে উপস্থিত উপভোক্তারা সেই টাকা দিতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে তাঁরা শেষ পর্যন্ত জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।সঞ্জীব রায় নামে এক অভিযোগকারী বলেন, উপপ্রধান ওসিউদ্দিন মণ্ডল পঞ্চায়েতের এক কর্মী পরিমল সরকারকে এই টাকা তোলার দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু, তাঁদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে নেওয়ায় বাড়ি তৈরি সম্ভব নয়। একই বক্তব্য অপর এক উপভোক্তা ভজন মাহাতরও। তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভজনবাবুর অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকেও ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন উপপ্রধান।ওসিউদ্দিন মণ্ডল অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। গত পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করেন তিনি। পরে পঞ্চায়েতে অনাস্থার প্রেক্ষিতে তিনি নির্দল হয়ে যান। বর্তমানে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।তিনি বলেন, সিমেন্ট, বালি, ইট, লোহা প্রভৃতি বাড়ি তৈরির সামগ্রীর দোকান রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি তাঁদের পঞ্চায়েত এলাকায় ৩৪০ জনের নাম প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নথিভুক্ত হয়। তার মধ্যে ৭০টি বাড়ি তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম তিনিই সরবরাহ করেন। সেকারণে মাঝেমধ্যে উপভোক্তাদের তিনি পঞ্চায়েত দপ্তরে ডেকে পাঠান। ঘর তৈরির উপকরণের দাম বাবদ টাকা নিয়ে স্লিপ দেন। সেই টাকাই তিনি নিয়েছেন। উপভোক্তাদের কাছ থেকে জুলুম করে টাকা নেওয়া হয়নি বলে সাফ জানান তিনি। তবে পরিমল সরকার টাকা দাবি করেছে কি না তা তাঁর জানা নেই। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য অবশ্য এই অভিযোগ পেয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণ মানুষের টাকা কিছুতেই এভাবে নয়ছয় হতে দেওয়া যাবে না। তদন্তে যে দোষী প্রমাণিত হবে, আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে এর আগেও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা জোরজুলুম করে আদায় করার অভিযোগ উঠেছে এই জেলায়। তবে জেলা প্রশাসনের কাছে এই ধরনের অভিযোগ এই প্রথম।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এক বিরলতর থেকে বিরলতর ব্যাক্তিত্ব যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-আজ আমি এমন এক ব্যক্তিত্বের কথা বলব যা খুবই বিরল।তুফানগঞ্জ এন এন এম হাইস্কুলের প্রাক্তন বায়োলজি শিক্ষক আমাদের সবার প্রিয় মাননীয় কুশল ব্যানার্জি মহাশয় যার প্রত্যেক কথা ছিল অমৃততুল্য,তিনি তুফানগঞ্জ এন.এন.এম হাই স্কুলে মাত্র 25 বছর বয়সে যোগ দেন।তার ব্যাক্তিত্ব ছিল বিরলতর থেকে বিরলতর।আমি যখন প্রথমদিন স্কুলে আসি আমার চোখ প্রথমে খোঁজে সেই ব্যক্তিত্বকে নাম না জানার ফলে আমি চিনতে পারিনি সেদিন কালের প্রবাহে আমি পরিচিতি লাভ করি তার সম্বন্ধে।তিনি যখন ক্লাস করাতেন তার ক্লাসে পিন পড়ারও শব্দ পাওয়া যেত মানে একদম প্সিকটি নট।তিনি খুব বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চান তিনি মাঝে মাঝে স্কুলে ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ে আসতেন।আর তার সেই পরিচিত তুঁত কালারের ওয়াটার পোলো।তার ব্যাক্তিত্বে আছে নানা শিল্পের মিশ্রণ তিনি একাধারে শিক্ষক,ভালো কবি এবং একজন সুদক্ষ লেখক।তার অসাধারণ কবি প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় তার ফেসবুক পোস্টে লেখা এই দু-লাইন থেকে -
"আকাশ, বৃষ্টি হও.... ষোড়শীর পিঠের ওপর কালো সাপের কুন্ডলী, তাতে একটা গন্ধরাজ বা শ্বেত করবী... কাজল চোখে দূর খেতের ছায়া পড়ে…

ফের প্রকাশ্যে বিয়ার পার্টি তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে বসল বিয়ার পার্টি।ঘটনাস্থল তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হল একদল কিশোর-কিশোরী।এই ঘটনায় আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রেল কর্তৃপক্ষকে। মঙ্গলবার বিকেলে ৪টা নাগাদ আট-নয়জন কিশোর কিশোরীর একটি দল বিয়ার নিয়ে উপস্থিত হয় তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন স্টেশনে উপস্থিত নিত্যযাত্রীরা।এদিকে এই ঘটনা সম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায় এই ঘটনাটি তাদের অজানা ছিল।
এমনিতেই তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন নিয়ে তুফানগঞ্জবাসীর অভিযোগের শেষ নেই।নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।আলোর ব্যবস্থাও নেই। নানান অপরাধমূলক কাজের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।আরপিএফ ইন্সপেক্টর সঞ্জয় প্রসাদ জানান,‘তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে আলো বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলাম।কিন্তু এখনও ব্যবস্থা হয়নি। এদিকে রেল পুলিশ সংখ্যায় কম।শুধুমাত্র একজন রেলপুলিশ দেওয়া হয়েছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।তিনি রাতেই কাজ করেন।দিনের বেলায় এমন ঘটনায় রেল পুলিশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বের করা হবে।’

কীভাবে কি হল ছেলেটির সঙ্গে?

স্টাফ রিপোর্টার:- তুফানগঞ্জের অধিবাসী সৌরদীপ পাল (ইনসেটে) বর্তমানে এক বিশেষ পরিচিত মুখ ফেসবুকে।তিনি নানা বিষয়ে মানুষকে মোটিভেট করেন।বর্তমানে তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে 14k ফলোয়ার কে না জানে তাকে?বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই চেনে তাকে।কিন্তু ইদানিং তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।ডাক্তার দেখিয়েছেন ডাক্তার বলেছেন,রাত জেগে কাজ করার জন্য এরূপ অবস্থা স্বাস্থ্যের।