সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঘাসফুলের জল্পনায় মুকুল রায় মানেই তৃণমূল কংগ্রেস

Wednesday, 04 Oct, 8.55 am

রানা সাহা,কোচবিহার: রাজ্যসভার সদস্যের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেছেন মুকুল রায়। কিন্তু, আগামী দিনের জন্য তাঁর কর্মসূচির বাইরে তৃণমূল কংগ্রেসের এমন কোন কোন গোপন বিষয় ফাঁস করে দিতে পারেন দল থেকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ডেড এক সময়ের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড? এই বিষয়েও চর্চা চলছে এখন ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে। আর, ওই সব অংশের চর্চায় এমন জল্পনাও চলছে, মুকুল রায় মানেই তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর জন্যই ঘাসফুল শিবিরের সংগঠন মজবুত হয়েছে। কিন্তু, কেন তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মুকুল রায়, এই ধরনের কথা বলতে পারেন দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক?
খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন অংশে এমনই চর্চা জারি রয়েছে, দল থেকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করার দিনই সংবাদমাধ্যমে মুকুল রায় জানিয়েছেন, রাজ্যসভার সদস্যের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে তিনি বিস্তারিতভাবে বলবেন।
কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু বলতে চাইবেন না মুকুল রায়। তা হলে, তিনি নিজেই 'ফেঁসে' যেতে পারেন।
পড়ুন: মুকুলের মিষ্টিতেই বিজয়া বিজেপি অফিসে
কেন, কীভাবে? ঘাসফুল শিবিরের ওই সব অংশে এমনও চর্চা চলছে যে, রাজনৈতিক দল চালানোর জন্য টাকার দরকার হয়, এই বিষয়টি অস্বীকারের নয়। এবং, কোন কোন উপায়ে টাকার ব্যবস্থা করতে হয়, সেই বিষয়টিও যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে অজানা নয়। কিন্তু, দলের বিভিন্ন গোপন বিষয় ফাঁস করার জন্য নয়। কোনও রাজনৈতিক দলে কোনও নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে, ওই নেতাকেও দলের জন্য 'মন্ত্রগুপ্তির শপথ' নিতে হয়। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে পদে থাকুন অথবা অন্য দলে ওই নেতা যোগদান করুন, ওই গোপন বিষয় গোপনই রাখতে হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের শুরু থেকে ছিলেন মুকুল রায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদেও তিনি ছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই, দলের বিভিন্ন গোপন বিষয় তাঁর অজানা নয়। বিশেষ করে, কীভাবে দলের জন্য অর্থের সংস্থান করতে হয়েছে, সে সবও তাঁর অজানা নয়। কিন্তু, এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা মানে যেমন 'মন্ত্রগুপ্তির শপথ' ভঙ্গ করা হবে। তেমনই, মুকুল রায়ও 'ফেঁসে' যেতে পারেন। কেন? ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে এমন চর্চা জারি রয়েছে, চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, বিশেষ করে সারদাকাণ্ডের তুলনায় নারদকাণ্ড অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে। তার উপর, নারদকাণ্ডে সিবিআই তদন্ত চলছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অর্থের সংস্থানের জন্য প্রকাশ্যে কিছু বললে মুকুল রায় 'ফেঁসে' যেতে পারেন। কারণ, তিনিও দলের জন্য ওই অর্থ সংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়টিও আর গোপন থাকবে না।
পড়ুন: মুকুল রায় দলে আসছে, ধরেই নিয়েছে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেড
কিন্তু, নিজের জন্য নয়, দলের জন্য টাকা নিয়েছেন। এই বিষয়টি যে এর আগে কোনও না কোনও কারণে প্রকাশ্যে আসেনি, তাও তো নয়। তা হলে? ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে এমন চর্চাও রয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও গোপন বিষয় ফাঁস করে দেওয়ার মতো 'ভুল' করবেন না মুকুল না। বরং, তিনি মানেই যে তৃণমূল কংগ্রেস, সেই বিষয়টির উপরই জোর দিতে পারেন। অর্থাত্‍, এক 'আমি'-র বিষয়টি প্রমাণের চেষ্টা করতে পারেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য তিনি কী কী করেছেন, সেই সব বিষয়ের উপরেই জোর দিতে পারেন মুকুল রায়। এবং, এ ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন অংশে এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলতে পারে, দলে তিনি 'শহিদ' হয়েছেন।
আর, এই 'শহিদ' হওয়ার ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশের সমর্থন পাওয়ার জন্য মুকুল রায় চেষ্টা করতে পারেন বলেও তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন অংশে চর্চা চলছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ওই সব অংশে এমন প্রশ্নও উঠছে যে, মুকুল রায় দলের জন্য কাজ করতেন বলে তাঁকে যেমন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তেমনই, তিনি দায়িত্বে ছিলেন বলেই দলের জন্য কাজও করতে হয়েছে। তবে, দলের মধ্যে সমান্তরাল সংগঠন গড়ে তোলার জন্য চেষ্টাও করে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। তা হলে, এখন 'শহিদ' হওয়ার চেষ্টা কেন?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এক বিরলতর থেকে বিরলতর ব্যাক্তিত্ব যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-আজ আমি এমন এক ব্যক্তিত্বের কথা বলব যা খুবই বিরল।তুফানগঞ্জ এন এন এম হাইস্কুলের প্রাক্তন বায়োলজি শিক্ষক আমাদের সবার প্রিয় মাননীয় কুশল ব্যানার্জি মহাশয় যার প্রত্যেক কথা ছিল অমৃততুল্য,তিনি তুফানগঞ্জ এন.এন.এম হাই স্কুলে মাত্র 25 বছর বয়সে যোগ দেন।তার ব্যাক্তিত্ব ছিল বিরলতর থেকে বিরলতর।আমি যখন প্রথমদিন স্কুলে আসি আমার চোখ প্রথমে খোঁজে সেই ব্যক্তিত্বকে নাম না জানার ফলে আমি চিনতে পারিনি সেদিন কালের প্রবাহে আমি পরিচিতি লাভ করি তার সম্বন্ধে।তিনি যখন ক্লাস করাতেন তার ক্লাসে পিন পড়ারও শব্দ পাওয়া যেত মানে একদম প্সিকটি নট।তিনি খুব বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চান তিনি মাঝে মাঝে স্কুলে ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ে আসতেন।আর তার সেই পরিচিত তুঁত কালারের ওয়াটার পোলো।তার ব্যাক্তিত্বে আছে নানা শিল্পের মিশ্রণ তিনি একাধারে শিক্ষক,ভালো কবি এবং একজন সুদক্ষ লেখক।তার অসাধারণ কবি প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় তার ফেসবুক পোস্টে লেখা এই দু-লাইন থেকে -
"আকাশ, বৃষ্টি হও.... ষোড়শীর পিঠের ওপর কালো সাপের কুন্ডলী, তাতে একটা গন্ধরাজ বা শ্বেত করবী... কাজল চোখে দূর খেতের ছায়া পড়ে…

ফের প্রকাশ্যে বিয়ার পার্টি তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।

তুফানগঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার:-দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে বসল বিয়ার পার্টি।ঘটনাস্থল তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।অংশগ্রহণকারী সদস্যরা হল একদল কিশোর-কিশোরী।এই ঘটনায় আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রেল কর্তৃপক্ষকে। মঙ্গলবার বিকেলে ৪টা নাগাদ আট-নয়জন কিশোর কিশোরীর একটি দল বিয়ার নিয়ে উপস্থিত হয় তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন স্টেশনে উপস্থিত নিত্যযাত্রীরা।এদিকে এই ঘটনা সম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায় এই ঘটনাটি তাদের অজানা ছিল।
এমনিতেই তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন নিয়ে তুফানগঞ্জবাসীর অভিযোগের শেষ নেই।নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।আলোর ব্যবস্থাও নেই। নানান অপরাধমূলক কাজের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশন।আরপিএফ ইন্সপেক্টর সঞ্জয় প্রসাদ জানান,‘তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে আলো বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলাম।কিন্তু এখনও ব্যবস্থা হয়নি। এদিকে রেল পুলিশ সংখ্যায় কম।শুধুমাত্র একজন রেলপুলিশ দেওয়া হয়েছে তুফানগঞ্জ রেল স্টেশনে।তিনি রাতেই কাজ করেন।দিনের বেলায় এমন ঘটনায় রেল পুলিশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বের করা হবে।’

কীভাবে কি হল ছেলেটির সঙ্গে?

স্টাফ রিপোর্টার:- তুফানগঞ্জের অধিবাসী সৌরদীপ পাল (ইনসেটে) বর্তমানে এক বিশেষ পরিচিত মুখ ফেসবুকে।তিনি নানা বিষয়ে মানুষকে মোটিভেট করেন।বর্তমানে তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে 14k ফলোয়ার কে না জানে তাকে?বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেই চেনে তাকে।কিন্তু ইদানিং তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।ডাক্তার দেখিয়েছেন ডাক্তার বলেছেন,রাত জেগে কাজ করার জন্য এরূপ অবস্থা স্বাস্থ্যের।